| বঙ্গাব্দ

স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন ডা. তাসনিম জারা | ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচন | এনসিপি খবর

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-12-2025 ইং
  • 1949494 বার পঠিত
স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন ডা. তাসনিম জারা | ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচন | এনসিপি খবর
ছবির ক্যাপশন: তাসনিম জারা

জাতীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন ডা. তাসনিম জারা: ঢাকা-১৭ আসনে নয়া সমীকরণ

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠ এখন সরগরম। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে পরিচিত মুখ এবং এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পার্টি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা এবার রাজনীতির ময়দানে নতুন চমক নিয়ে হাজির হয়েছেন। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি আসন্ন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে যা জানালেন তাসনিম জারা ডা. তাসনিম জারা তাঁর পোস্টে জানান, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা এবং নাগরিক অধিকার সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তিনি সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, "একজন চিকিৎসক হিসেবে আমি মানুষের কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছি। এখন সময় এসেছে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার।" তিনি ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী-কানাটনমেন্ট) আসন থেকে নির্বাচন করার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যেখানে বর্তমানে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বের এক লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে তাঁর এই স্বতন্ত্র প্রার্থিতার ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তরুণ এবং শিক্ষিত ভোটারদের মাঝে তাঁর এক বিশাল গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে যা নির্বাচনের ফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৫০ থেকে ২০২৫ — রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ও বিবর্তন

ডা. তাসনিম জারার মতো একজন পেশাজীবীর রাজনীতিতে আসার এই প্রেক্ষাপটটি বুঝতে হলে আমাদের গত সাত দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকাতে হবে:

  • ১৯৫০-এর দশক ও ভাষা আন্দোলন: ১৯৫০-এর দশকে রাজপথে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল সীমিত কিন্তু অত্যন্ত সাহসী। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে নারীরা পর্দার আড়াল থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

  • ১৯৭১ ও স্বাধীন বাংলাদেশ: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীরা যেমন অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন, তেমনি সেবা ও তথ্যের আদান-প্রদান দিয়ে অবদান রেখেছেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের সংবিধানে প্রথম নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের বিধান রাখা হয়।

  • ১৯৮০ ও ৯০-এর দশক: ১৯৮০-এর দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে দেশের দুই প্রধান নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার উত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অবস্থানকে সুদৃঢ় করে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রে নারীদের জোরালো অংশগ্রহণ শুরু হয়।

  • ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৫-এর সংস্কার: দীর্ঘ ১৫ বছরের অপশাসনের অবসান ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে। এই আন্দোলনে নারী শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের ভূমিকা ছিল অনন্য। ২০২৪ পরবর্তী 'নতুন বাংলাদেশে' ডা. তাসনিম জারার মতো তরুণ পেশাজীবীদের রাজনীতিতে আসার এই প্রবাহটি মূলত রাষ্ট্র সংস্কারের একটি অংশ।

  • ২০২৫-এর বর্তমান চিত্র: ২০২৫ সালের এই শেষ প্রান্তে এসে যখন ত্রয়োদশ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে, তখন প্রচলিত দলীয় রাজনীতির বাইরে গিয়ে তরুণ প্রজন্মের প্রার্থীরা স্বতন্ত্রভাবে লড়ার সাহস দেখাচ্ছেন। এটি মূলত ১৯৫০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত রাজনৈতিক চেতনার এক ঐতিহাসিক উত্তরণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঢাকা-১৭ আসনের ভোটাররা সাধারণত সচেতন এবং শিক্ষিত। এখানে ডা. তাসনিম জারার মতো একজন মেধাবী ব্যক্তিত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচনি লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দেবে। বিশেষ করে তারেক রহমানের ঢাকা-১৭ আসনের ভোটার হওয়া এবং আসিফ মাহমুদ ও রাশেদ খানের মতো তরুণদের সক্রিয়তার মাঝে তাসনিম জারা এক ভিন্ন আবেদন তৈরি করবেন।


সূত্র: ১. ডা. তাসনিম জারার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ ও অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫। ২. প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অনলাইন সংস্করণ। ৩. বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনের ইতিহাস (১৯৭৩-২০২৪): নির্বাচন কমিশন গেজেট।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency